বহুল আলোচিত Shuttle Diplomacy

2138
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
Advertisement
Content Protection by DMCA.com

বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
বহুল আলোচিত Shuttle Diplomacy

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সাথে ইসরায়েল সরকারের একটা সরাসরি সম্পর্ক বা যোগাযোগ রয়েছে। একইভাবে তুরস্কের সাথে ইরান সরকারেরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে(Direct Relationship)।

সরাসরি সম্পর্ক বলতে মূলত বুঝাচ্ছি দুটি দেশের সরকার একে অপরের সাথে নিয়মিত ফোনালাপ হয়, উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে অপরের দেশে ভ্রমণ করে, দুটি দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ডায়ালগ হয়, আলোচনা হয়, যোগাযোগ হয়।

দুটি দেশের সরকার টু সরকার এর মধ্যে এই ডিরেক্ট সম্পর্কটাকে আমরা বলি “Principal-to-Principal Contact”।

কিন্তু অনেকসময় দেখা যায় বিভিন্ন দ্বন্দ্ব, ক্রাইসিস কিংবা যুদ্ধের কারনে একটি দেশ অপর আরেকটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। যেমন রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সরকারের সাথে মিয়ানমার সরকারের সরাসরি কোন সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই। ইস/রায়েল ও পেলে/স্টাইন এই দুটি দেশের সরকারের মধ্যেও তেমন কোন ডিরেক্ট যোগাযোগ নেই।

একইভাবে Spying বা নজরদারির কারনে একসময় যুক্তরাষ্ট্র তার দেশ থেকে রাশিয়ার সকল কূটনীতিকদের (Diplomats) বহিষ্কার করেছিলো। পরবর্তীতে রাশিয়া সরকারও তার দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। ফলস্বরূপ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

একে অপরের সাথে রেষারেষি, দ্বন্দ্ব কিংবা যুদ্ধের কারনে সম্পর্কচ্ছেদ হলে তখন তৃতীয় আরেকটি দেশের প্রয়োজন হয় এই দুটি দেশের মধ্যে মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য। যেমন সম্প্রতি জেরুজা/লেমকে কেন্দ্র করে ইসরা/য়েল – ফিলি/স্তিনের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ করতে তৃতীয় পার্টি হিসেবে তুরস্ক ও মিশর এগিয়ে এসেছিলো।

তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতায় পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি হয়। বিবদমান দুটি দেশের মধ্যে মিমাংসা করতে যখন তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হয় তখন সেটাকে “Shuttle Diplomacy” বলা হয়।

বাংলাদেশ এখন এই শাটল ডিপ্লোম্যাসি ব্যাবহার করছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটা মধ্যস্থতা করিয়ে দিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় একটি পক্ষকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ কখনো চীনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কখনো রাশিয়ার কাছে হাত পাতছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটা রাজনৈতিক সমাধান করিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ তৃতীয় একটি দেশকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। আর এটাকেই বলা হচ্ছে শাটল ডিপ্লোম্যাসি।

আরো সহজ করে বললে দুইটি রাষ্ট্রের সরকারের মধ্যে যখন কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয় এবং তাদের সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয় না তখন অন্য কোনো পক্ষ বা মধ্যস্ততাকারীর মাধ্যমে কূটনীতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার নামই শাটল ডিপ্লোম্যাসি। মধ্যস্ততা করার জন্য যে দেশ হতে হবে এমন কোন শর্ত নেই, আন্তর্জাতিক কোন সংস্থাও হতে পারে এই মধ্যস্ততাকারী।

Shuttle Diplomacy এর প্রথম উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছিলো ১৯৭০-র দশকে। ১৯৭৪ সালে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার এ কূটনীতির উদ্ভাবক। হেনরি কিসিঞ্জার সর্বপ্রথম এই ডিপ্লোম্যাসির প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন ইস/রাইল, মিসর ও সিরিয়ার মাঝে।

শাটল ডিপ্লোম্যাসি এর আরেকটা উদাহরণ দেওয়া যাক। “ফকল্যান্ড” হচ্ছে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এই দ্বীপ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটিশদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটা বিরোধ চলছিলো। এমনকি এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে একটা যুদ্ধ হয়।

পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুটি দেশের মধ্যে একটা মিমাংসা হয়। যেকারণে ফকল্যান্ড দ্বীপের এই সংকট নিরসনকে বলা হয় শাটল ডিপ্লোম্যাসি এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

লেখকঃ Muhammad Miraj Mia

বহুল আলোচিত Shuttle Diplomacy আরও পড়ুনঃ 

১. কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির উপর ১২৫ টি প্রশ্ন ও উত্তর
২. তথ্যপ্রযুক্তির বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতিষ্ঠাতার নাম ও সাল
৩. The Daily Star Editorial অনুবাদ : পর্ব- ১৪

ফেইসবুকে আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ ও অফিসিয়াল গ্রুপের সাথে যুক্ত থাকুন। ইউটিউবে পড়াশুনার ভিডিও পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। আমাদের সাইট থেকে কপি হয়না তাই পোস্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখতে পারেন।

Advertisement